আজ চিত্রার বিয়ে - Aaj Chitrar Biye

আজ চিত্রার বিয়ে - হুমায়ূন আহমেদ


আজ চিত্রার বিয়ে - Aaj Chitrar Biye
ডাউনলোড লিংক: https://bit.ly/2Dya9z7

উপন্যাসের নায়িকার নাম চিত্রা। চিত্রার মায়ের নাম শায়লা বানু, বাবা চৌধুরী খলিলুর রহমান সাহেব আর চিত্রার ছোট বোনের নাম মীরা। চিত্রার বাবা খলিলুর রহমান সাহেব ছোটখাটো একটা চাকরি করেন। তিনি মোটেও একজন সংসারী মানুষ না। সংসার নিয়ে তার চিন্তাভাবনা খুব কম বলেই শায়লা বানু মানে চিত্রার মাকে সবকিছু সামাল দিতে হয়। শায়লা বানু একটা এনজিওতে চাকরিও করেন সংসারের আর্থিক সুবিধার জন্য। এমনকি চিত্রার বিয়ের ব্যাপারেও তার বাবার কোন চিন্তা নেই।

ডাউনলোড লিংক: https://bit.ly/2Dya9z7 

আজ চিত্রার বিয়ে - Aaj Chitrar Biye
চিত্রার মা তার বোনের সহায়তায় ছেলে খুজেঁ চিত্রার জন্য। শেষমেশ চিত্রার বিয়ে ঠিক হলো এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছেলের সাথে। এদিকে চিত্রার ছোট বোন মীরা কারো সাথে ইদানিং ফোনে খুব কথা বলে। শায়লা বানুর ধারণা ফোনের অপর প্রান্তের ছেলেটার নাম বাড়ির ভাড়াটে নিজাম সাহেবের ভাইপো মজনু। কিন্তু মজনুর ঘর নাই, বাড়ি নাই, থাকার জায়গা নাই; তাকে কি করে মীরা পচ্ছন্দ করে? শায়লা বানুর মাথায় এটা আসে না! খলিলুর রহমান সাহেবের একমাত্র ছোট বোন ফরিদা। তার স্বামী জহিরউদ্দীন। অভাবের তাড়নায় ফরিদার চুরির অভ্যাস হয়ে গেছে। শায়লা বানু ফরিদাকে একদমই সহ্য করতে পারে না। সে চায়ও না ফরিদার চিত্রার বিয়েতে থাকুক। এদিকে চিত্রার বিয়ের দ দিনই ফরিদার স্বামী তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। আবার ভাইয়ের বাসায় এসে থাকার উপায় নেই ফরিদার। সবমিলিয়ে এক বিচ্ছিরি অবস্থা! এরই মাঝে ঘটে গেলো এক ভয়াবহ দূর্ঘটনা। চিত্রার বিয়ের দিনের সেই সব কাহিনী নিয়েই লেখা হুমায়ূন আহমেদের "আজ চিত্রার বিয়ে"!

অবশেষে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছেলের সঙ্গে চিত্রার বিয়েটা ঠিক হয়েই গেল। ছেলেপক্ষ তিনবার মেয়ে দেখে গিয়ে আজ ফাইনাল ডিসিশান জানাল, আগামী বৃহস্পতিবার এনগেজমেন্ট। মেয়ের এনগেজমেন্টের চিন্তায় শায়লা বেগমের পাগলপ্রায় দশা। আর হবে নাই বা কেন, ছেলেপক্ষের অর্থ, বিত্ত, স্ট্যাটাসের তুলনায় তাদের অবস্থান তো কিছুই না। তার এই শ্যামলা মেয়েটির কপালে যে এত ভাল বিয়ে লেখা ছিল, সেটাই তার কাছে এক বিরাট বিস্ময়। বড় মেয়ের বিয়ের চিন্তার পাশাপাশি ছোট মেয়ে মীরার চিন্তাও তাকে কম ভোগাচ্ছে না। স্কুলপড়ুয়া এই মেয়েটি ইদানীং প্রায়ই নিচু গলায় টেলিফোনে কথা বলে। এই বয়সটা হল প্রেমে পড়ার বয়স, কঠিন নজরদারির মধ্যে না রাখলে পা পিছলাবার সম্ভাবনা। তাই শায়লা বেগম তার উকিলি জেরার মাধ্যমে বের করে ফেললেন মীরার পেটের কথা। সব শুনে যা মনে হচ্ছে, ভাড়াটিয়া নিজাম সাহেবের দূরসম্পর্কের চাকর টাইপের ভাই মজনুই মীরার ফোনালাপের নায়ক। সে পরিচয় গোপন করে নিজের জন্য লাইলী ঠিক করে ফেলেছে। মায়ের কথাটা এখন মীরার কাছেও বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে। চাকর শ্রেনীর একটা লোকের সাথে এতদিন ধরে প্রবল আবেগে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়ায় তার অস্বস্তির সীমা নেই। বাড়ির সবচেয়ে গুরুত্বহীন মানুষ শায়লা বেগমের স্বামী, রহমান সাহেব। তার অস্তিত্ব নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই, নেই তার পছন্দ-অপছন্দেরও কোন মূল্য। তবে তার ছোটবোন ফরিদার কাছে তিনি পৃথিবীর সবচাইতে ভাল মানুষ। অভাবে পড়ে ফরিদার স্বভাবে চৌর্যবৃত্তি ঢুকে যাওয়ায় রহমান সাহেবের বাড়িতে ফরিদা অবাঞ্ছিত। তাইতো বোনের চরম দুঃসময়েও তাকে মাথা গোজার ঠাই দিতে রহমান সাহেব অপারগ। তার এই অপারগতার পরিণাম যে এতটা ভয়াবহ হবে তা কি আর তিনি জানতেন!!!

Comments