অদ্ভুত সব গল্প - হুমায়ূন আহমেদ - Adbhut Sob Golpo

অদ্ভুত সব গল্প - হুমায়ূন আহমেদ

অদ্ভুত সব গল্প - হুমায়ূন আহমেদ - Adbhut Sob Golpo

বই ডাউনলোড করুন: https://bit.ly/2ROP2Bf

অদ্ভূত সব গল্প! নাম টাই কেমন জানি! কিন্তু না, কথা টাই সত্যি। কেমন জানি গল্প গুলো। অন্যরকম, একেবারে অন্যরকম।বইটি ছোট, কিন্তু পাঁচটি গল্প আছে। আর সব গুলোই অন্যরকম অদ্ভূত টাইপ।বইয়ের শুরুর গল্পটা এক ফকির এর। গল্পের নাম "গুনীন"।ফকির কিন্তু মন্ত্র জানতো, তার নাকি দুইটা জ্বীন ও ছিলো। ফকির এর নাম চান্দ শাহ। তবে এটা তার সত্যিকার নাম নয়। এছাড়া তার আরও একটা নাম আছে। কিন্তু ফকির কে কেউ দাম দেয় না। কেউ তার তন্ত্র মন্ত্র বা জ্বিন কে ভয় পায় না। কেন না ফকির এর মতো ওগুলোও ছিলো নিষ্ক্রিয়। তার স্ত্রী ফুলবানু অসুস্থ। সারাদিন বিছানায় পরে থাকে। সেও ফকির কে কথা শোনায়। আগে একটু কম শোনাইতো কিন্তু দিন দিন বাড়ছে। এখন আর কোন লাগাম নেই। কিন্তু একদিন হলো কি...কি হলো...? গল্প পড়লেই জানা যাবে। তারপরের গল্প "আয়না"শওকত সাহেব ইস্টার্ন কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কের ক্যাশিয়ার। সকাল বেলায় দাড়ি কাটতে গিয়ে, গাল কেটে ফেলেছেন।আসলে উনি যে আয়না দেখে দাড়ি শেইভ করেন, এটা অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। তাই ঝাপসা দেখায়, এর ফলে তিনি রেজার আন্দাজে টান দিয়েছেন। আর তাতেই গাল কেটে গেছে। তিনি গালে হাত দিয়ে বসে আছেন। ভাবছেন একদিন ও মনে থাকে না তার আয়না কিনে আনতে। আর পুরোনো আয়না দিয়ে দাড়ি কাটতে গিয়ে তিনি বারবার গাল কেটে বসে থাকেন। গাল থেকে হাত নামিয়ে দেখতে চাইলেন রক্ত পরা কমল কিনা। আয়নায় তাকিয়ে দেখেন একটা ছোট ফুটফুটে মেয়ে লাল ফ্রক পরে বসে আছে। তিনি ঘাড় উল্টো করে দেখলেন কেউ আছে কিনা। কিন্তু না নেই। আবার তাকাতেই মেয়েটি তাকে বলল, আপনার গাল কেটে গেছে। তিনি অবাক হলেন। তিনি তো পাগল হয়ে যান নি। আসলেই কি আয়না তে এই মেয়েটা ছিল...? কি জানি..তিন নাম্বার গল্প টার নাম "কুদ্দুসের এক দিন" মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, তার নামেই নাম করন এই গল্পের। তিনি পত্রিকা অফিসে কাজ করেন। তার বয়স বাহান্ন। গত ৩৬ বছর ধরে তিনি বিভিন্ন চাকরি করেছেন। সবই ফালতু কাজ। কিছু দিন তিনি এক চোরের অ্যাসিসটেন্ট ও ছিলেন। তবে এত কাজের মধ্য পত্রিকা অফিসে কাজ টা বেশ ভালো। তেমন কোন কাজ না, ছোট কাজ।চা বানানো, সম্পাদক সাহেবের জন্য চা বানানো, ড্রাইভার তেল নেবে তার সঙ্গে যাওয়া এরকম টালটু ফালটু কাজ। সে রাতে পত্রিকা অফিসেই ঘুমায়। সকাল বেলা উঠেই সদ্য খবর কাগজ পড়ে, তাও আবার বিনা পয়সায়। আর একারনে সে নিজেকে খুব হিংসা করে। এক সকালে পত্রিকার কালামে দেখল আজকের দিন কেমন যাবে। কুদ্দুস ধনু রাশি আর তার রাশি মতো সে পড়ে দেখল কেমন যাবে তার দিন। গল্প পড়তে পড়তে আমরাও জানবো তার দিন টা কি করে গিয়েছিলো।চারনাম্বার গল্প টা হলো "ভাইরাস" গল্পটা নুরুজ্জামান সাহেবের। বর্তমানে তিনি খুব সুখী মানুষ। বীমা কোম্পানিতে চাকরি করতেন। অবসর পেয়েছেন। আশ্বিন এর এক দুপরে লালবাগের কেল্লা দেখে। একটা রেস্টুরেন্ট ঢুকলেন খাবেন বলে। তখনি এক লোক এসে তার টেবিলে বসলেন। এইলোক টার সাথে কিছু কথা হলো। সে কথা গুলোও অদ্ভূত। পাঁচ নাম্বার গল্পের নাম "নিজাম সাহেবের ভূত"এই গল্পটার কথা নাই বললাম। বই পড়ার সময়ই জানা যাবে নিজাম সাহেব এর ভূতের কথা। আর তার অদ্ভূত সব কর্মকান্ড। গল্পগুলো পাঠক পড়লেই বুঝতে পারবেন, কত টা অদ্ভূত এর কাহিনী গুলো। সব থেকে মজা লাগছে আয়না গল্পটা। এই গল্পের পিচ্চি মেয়েটার জন্য খারাপ লাগছে। আবার নিজাম সাহেবের ভূত গল্পটাও বেশ আকর্ষনীয়। হুমায়ুন আহমেদ বাংলাদেশ এর অন্যতম কথাসাহিত্যিক।তিনি উপন্যাস, নাটক, গল্প ইত্যাদি রচনা করেছেন।তাঁর গল্প গুলো শুধু মাত্র শিশুতোষ বলা যায় না, কেন না এই গল্প গুলো সব বয়সী পাঠকদের জন্য। এবং এগুলো বেশ উপভোগ্য। তার গল্পের রস সকলকেই সমান ভাবেই আকর্ষন করে। 

Comments